কল্যাণময় জীবনের জন্য সুন্নত



মুফতি এনায়েতুল্লাহ : বর্তমানে মুসলমানরা পরস্পরে নানাবিধ মতবিরোধ ও মতানৈক্যে লিপ্ত। এসব কাজ ভীষণ ক্ষতিকর ও গর্হিত। শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব থেকে কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমেই বেঁচে থাকা সম্ভব। শরিয়তের বিধানাবলির মধ্যে সুন্নত অন্যতম। সুন্নতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে শরিয়তবেত্তাগণ বলেছেন, মানুষের নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারসহ যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি রাসূলুল্লাহর (সা.) তরিকা, পছন্দ এবং তাঁর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আদায় ও পালন করাই সুন্নত। অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগিসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে একনিষ্ঠভাবে রাসূলুল্লাহর (সা.) অনুসরণ করা। হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) অনুসরণেই রয়েছে মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ।
এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, �হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমায় অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের যাবতীয় গোনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, বড় করুণাময়।� থসূরা আল ইমরান : ৩১
এ আয়াতে আল্লাহ মানবজাতিকে হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) অনুসরণ ও অনুকরণের জন্য এমন দুটি পুরস্কার ঘোষণা করেছেন, যা মানবজীবনে অতি প্রয়োজন। যা ছাড়া মানব জীবনের কল্যাণের কোনো উপায় নেই। একটি হলো- আল্লাহ মানুষকে ভালোবাসবেন, অপরটি হলো তার গোনাহ মাফ করে দেবেন। আর এই দুটি প্রাপ্তি আসবে রাসূলুল্লাহ (সা.)কে যথাযথভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভালোবাসার মাধ্যমে। হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, �যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালোবাসল সে যেন আমাকে ভালোবাসল, যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসবে সে বেহেশতে আমারই সান্নিধ্যে থাকবে।�-তিরমিজি
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, �যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ক্রান্তিলগ্নে আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে, সে একশ� শহীদের সমতুল্য সওয়াব পাবে।� আল্লাহর রাস্তায় একবার শহীদ হওয়া কতই না সওয়াবের। সেখানে একশ� শহীদের মর্যাদা কত ঊর্ধে তা আর নতুন করে বলার নেই।
আমরা আমাদের জীবনধারণের জন্য সব কাজই করে থাকি। প্রিয় নবী (সা.)ও এসব কাজ করেছেন। এই কাজগুলো সুন্নত মোতাবেক পালন করলেই রাসূলুল্লাহর (সা.) ভালোবাসা, সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি মিলবে। অথচ সুন্নত পদ্ধতি জানা না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা সুন্নতের ফায়দা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। উম্মতে মোহাম্মদি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, রাসূলুল্লাহর (সা.) সুন্নতগুলো জানা এবং তদনুযায়ী আমল করা।
মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)কে ভালোবাসেন না। তাঁর পছন্দের জিনিসকে পছন্দ করেন না। কিয়ামতের ময়দানে তাঁর সাথী হওয়ার আশা রাখেন না। তাঁর শাফায়াত প্রত্যাশা করেন না।
প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানই কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহর (সা.) শাফায়াত প্রত্যাশা করে। সবাই তাঁকে ও তাঁর ভালোবাসার বস্তুকে ভালোবাসার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর পথ ও পদ্ধতি কী? কীভাবে তা লাভ করা যায়?
হ্যাঁ, এর পথ-পদ্ধতি একটিই। আর তা হলো, রাসূলুল্লাহর (সা.) আনুগত্য করা। তাঁর সুন্নতকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। এ কারণেই আল্লাহতায়ালা রাসূলুল্লাহর (সা.) প্রতি ভালোবাসাকে অত্যাবশ্যক করে দিয়েছেন মানুষের জন্য। অতএব, প্রিয় নবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসা ছাড়া ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে না। নবী (সা.)কে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হলো, তাঁর অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং তাঁর সুন্নত পালন করা। কোনো ধরনের মতবিরোধে না জড়ানো।
হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, �আর তোমাদের কেউ বেঁচে থাকলে সে বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের কর্তব্য হবে, আমার সুন্নত এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নত অনুসরণ করা। তোমরা এ সুন্নতকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকো এবং সমস্ত বিদআত থেকে বিরত থাকো। কেননা প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।� থআবু দাউদ ও তিরমিজি
বর্তমানে মুসলমানরা পরস্পরে নানাবিধ মতবিরোধ ও মতানৈক্যে লিপ্ত। এসব কাজ ভীষণ ক্ষতিকর ও গর্হিত। শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব থেকে কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমেই বেঁচে থাকা সম্ভব। আল্লাহতায়ালা বলেন, �তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না। তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।� -সূরা আনফাল : ৪৬
এই আয়াত থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সুন্নতের যথার্থ অনুসরণ করা এবং তা আঁকড়ে ধরাই হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। আর নিন্দনীয় মতবিরোধ থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র পথ হলো আনুগত্য। তাই আমাদের উচিত, ব্যক্তিগত জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠাসহ সবাইকে সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপনের দাওয়াত দেওয়া। কারণ সুন্নতেই রয়েছে মানবজীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ আর মুক্তি। 
Post a Comment