ইলমের এলাহীর তাছীর সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ-Verses of the Quran tachira ilamera Elahi


23 04 2010
আল্লহ তায়া’লা আপন রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কে সম্বোধন করিয়া এরশাদ করিতেছেন, –আর যখন এই সমস্ত লোক সেই কিতাব শ্রবণ করে যাহা রসুলের উপর নাযিল হইয়াছে তখন আপনি, (কুরআনে কারীমের আছরের দরুন) তাহাদের চোখে অশ্রু বহিতে দেখিবেন, এই কারণে যে তাহারা সত্যকে উপলব্ধি করিতে পারিয়াছে। (সূরা মায়েদাহঃ ৮৩)
আর যখন কুরআন পড়া হয় তখন উহা কান লাগাইয়া শুন এবং চুপ থাক, যেন তোমাদের উপরে রহম করা হয়। (সূরা আ’রাফঃ ২০৪)
সেই বুযুর্গ ব্যক্তি হযরত মূসা আ’লাইহিস সালাম কে বলিলেন, যদি আপনি (ইলম হাসিলের উদ্দেশ্যে) আমার সহিত থাকিতে চান তবে খেয়াল রাখিবেন, যেন কোন বিষয়ে আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা না করেন, যতক্ষন আমি নিজেই সে বিষয়ে আপনাকে বলিয়া না দিই। (সূরা কাহাফঃ ৭০)
আল্লহ তায়া’লা আপন রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কে এরশাদ করিতেছেন, –আপনি আমার সেই সকল বান্দাগনকে সুসংবাদ শুনাইয়া দিন, যাহারা এই কালামে এলাহীকে কান লাগাইয়া শ্রবণ করে, অতঃপর উহার উত্তম কথাগুলির উপরে আমাল করে। ইহারাই তাহারা, যাহাদিগকে আল্লহ তায়া’লা হেদায়াত দান করিয়াছেন, আর ইহারাই জ্ঞানী লোক। (সূরা যুমারঃ১৭-১৮)
আল্লহ উৎকৃষ্ট বাণী অর্থাৎ কুরআনে কারীম নাযিল করিয়াছেন, উহা এমন কিতাব যাহার বিষয়াবলী পরস্পর সামঞ্জস্যশীল, বারবার পুনরাবৃত্তি করা হইয়াছে। যাহারা আপন রবকে ভয় করে তাহাদের দেহ এই কিতাব শুনিয়া কাঁপিয়া উঠে। অতঃপর তাহাদের দেহ ও তাহাদের অন্তর কোমল হইয়া আল্লহ তায়া’লার যিকিরের প্রতি মনোনিবেশকারী হইয়া পড়ে। (সূরা যুমারঃ ২৩)
মুন্তাখাব হাদিস (জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ৩৪৮-৩৪৯

ইলম ও যিকিরঃ হাদীস-৪

23 04 2010
হযরত মুআ’য জুহানী রদিয়াল্লহু আ’নহু (معاذ الْجهنىّ رضى الله عنْه) হইতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ পড়িবে এবং উহার উপর আমাল করিবে, তাহার পিতামাতাকে কিয়ামাতের দিন এমন এক তাজ (মুকুট) পড়ানো হইবে যাহার আলো সূর্যের আলো হইতেও অধিক হইবে। অতএব যদি সেই সূর্য তোমাদের ঘরের ভিতরে উদিত হয়! (তবে উহা যে পরিমাণ আলো ছড়াইবে সেই তাজের আলো উহা হইতেও অধিক হইবে।) তবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা যে স্বয়ং কুরআন শরীফের উপর আমাল করিয়াছে? (অর্থাৎ যাখন পিতামাতার জন্য এই পুরষ্কার, তখন আমালকারীর পুরষ্কারতো ইহা অপেক্ষা আরও বেশি হইবে।) (আবু দাউদ)
মুন্তাখাব হাদিস (জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ৩২২

ইলম সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ-২

22 04 2010
রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বধোন করিয়া বলা হইতেছে যে– আপনি বলিয়া দিন যে যাহার জ্ঞানী ও যাহারা অজ্ঞ, তাহারা কি বরাবর হইতে পারে (সূরা যুমারঃ৯)
হে ঈমানদারগন, যখন তোমাদিগকে বলা হয় যে, মাজলিসে অন্যদের জন্য বসার জায়গা করিয়া দাও তখন তোমরা আগতদের জন্য জায়গা করিয়া দিও, আল্লহ তায়া’লা তোমাদিগকে (জান্নাতে) প্রশস্ত জায়গা দান করিবেন। আর যখন (কোন প্রয়োজনে) তোমাদিগকে বলা হয় যে, মাজলিস হইতে উঠিয়া যাও। তখন উঠিয়া যাইও। আল্লহ তায়া’লা (এই হুকুম ও এমনিভাবে অপরাপর হুকুম মান্য করার কারণে) তোমাদের মধ্যে ঈমনদারগনের এবং যাহাদিগকে (দ্বীনের) ইলম দান করা হইয়াছে তাহাদের মর্তবা উঁচা করিয়া দিবেন, আর তোমরা যাহাকিছু কর উহা সম্পর্কে আল্লহ তায়া’লা অবগত আছেন। (সূরা মুজাদালাহঃ১১)
সত্যকে অসত্যের সহিত মিশ্রিত করিও না এবং জানিয়া বুঝিয়া সত্য (অর্থাৎ শারিয়াতের হুকুম আহকাম)কে গোপন করিও না। (সূরা বাকারাহঃ ৪২)
(কি আশ্চর্য! যে,) তোমরা লোকদের তো নেক কাজের হুকুম কর, অথচ নিজেদের খবর লও না। অথচ তোমরা কিতাব তেলাওয়াত করিয়া থাক। (যাহার চাহিদা এই ছিল যে। তোমরা ইলমের উপরে আমাল করিতে) তবে কি তোমরা এতটুকুও বুঝ না? (সূরা বাকারাহঃ ৪৪)
হযরত শুআইব আ’লাইহিস সালাম আপন কওমকে বলিলেন– (আমি যেমন তোমাদিগকে এই সকল বিষয়ে শিক্ষাদান করিতেছি, নিজেও তো উহার উপর আমাল করিতেছি।) এবং আমি ইহা চাই না, যে কাজ হইতে তোমাদিগকে নিষেধ করি স্বয়ং উহা করি। (সূরা হুদঃ ৮৮)
মুন্তাখাব হাদিস (জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ৩১৯-৩২০

ইলম সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ-১

21 04 2010
যেমনিভাবে আমরা (আরবীতে সম্মান প্রকাশ করতে একবচনের কর্তার সাথে বহু বচন বাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়) (কা’বা কে কেবলা নির্ধারণ করিয়া তোমাদের উপর আপন নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করিয়াছি, তেমনিভাবে)  আমরা তোমাদের মধ্যে একজন (মহান) রসুল প্রেরণ করিয়াছি। যিনি তোমাদেরই মধ্য হইতে একজন, যিনি তোমাদিগকে আমার আয়াতসমূহ পড়িয়া শুনান, তোমাদিগকে নফসের নাপাকী হইতে পাক করেন, তোমাদেরকে কুরআন কারীমের তা’লীম দেন এবং এই কুরআনের ব্যাখ্যা ও আপন সুন্নাত ও তরীকার(ও) তা’লীম দেন, আর তোমাদিগকে এরূপ (কাজের) কথা শিক্ষা দেন যাহা তোমরা জানিতেও না (সূরা বাকারাহঃ১৫১)
রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বধোন করিয়া বলিতেছেন, – আল্লহ তায়া’লা আপনার উপর কিতাব ও জ্ঞানের বিষয় নাযিল করিয়াছেন এবং আপনাকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দিয়াছেন যাহা আপনি জানিতেন না, আর আপনার প্রতি আল্লহ তায়া’লার অসীম অনুগ্রহ রহিয়াছে। (সূরা নিসাঃ১১৩)
রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বধোন করিয়া বলিতেছেন, – আপনি এই দোয়া করুন যে, হে আমার রব আমার ইলম বৃদ্ধি করিয়া দিন (সূরা ত্বহাঃ১১৪)
নিঃসন্দেহে আমরা (আরবীতে সম্মান প্রকাশ করতে একবচনের কর্তার সাথে বহু বচন বাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়) দাউদ ও সুলাইমানকে ইলম দান করিয়াছি এবং ইহার পর তাঁহারা উভয় নবী বলিলেন, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লহ তায়া’লার জন্য যিনি আমাদিগকে আপন বহু ঈমানদার বান্দাগনের উপর সম্মান দান করিয়াছেন (সূরা নামলঃ১৫)
এবং আমরা এই উদাহরণসমূহ লোকদের জন্য বর্ণনা করি, কিন্তু জ্ঞানবান ব্যক্তিরাই উহা বুঝিতে সক্ষম হয়। (সূরা আনকাবুতঃ৪৩)
নিঃসন্দেহে আল্লহ তায়া’লাকে তাঁহার ওই সকল বান্দারাই ভয় করে, যাহারা তাঁহার আজমত সম্পর্কে জানে। (সূরা ফাতিরঃ২৮)
মুন্তাখাব হাদিস (জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ৩১৭-৩১৯

ইলম ও যিকিরঃ হাদীস-৩

20 04 2010
হযরত বুরইদাহ আসলামী রদিয়াল্লহু আ’নহু (بريْدة الأسْلمىّ رضى الله عنْه) বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ পড়ে, উহা শিক্ষা করে, উহার উপর আমাল করে, তাহাকে কিয়ামাতের দিন তাজ (মুকুট) পড়ানো হইবে যাহা নূরের তৈরী হইবে। উহার আলো সূর্যের আলোর ন্যায় হইবে। তাহার পিতা মাতাকে এমন দুই জোড়া পোষাক পড়ানো হইবে যে, সমগ্র দুনিয়া উহার মোকাবিলা করিতে পারে না। তাহারা আরজ করিবে, আমাদিগকে এই পোষাক কি কারণে পড়ানো হইয়াছে? এরশাদ হইবে, তোমাদের সন্তানের কুরআন শরীফ পড়ার বিনিমিয়ে। (মুস্তাদরাকে হাকেম)
মুন্তাখাব হাদিস (জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ৩২১-৩২২

ইলম ও যিকিরঃ হাদীস-২

20 04 2010
হযরত উ’সমান ইবনে আ’ফফান রদিয়াল্লহু আ’নহু (عثْما بْن عفّان رضى الله عنْه) হইতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআন শরীফ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়। (তিরমিযী)
মুন্তাখাব হাদিস (জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ৩২১

ইলম ও যিকিরঃ হাদীস-১

19 04 2010
হযরত আবু মুসা রদিয়াল্লহু আ’নহু (ابىْ موْسى رضى الله عنْه) হইতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, আল্লহ তায়া’লা আমাকে ইলম ও হেদায়েতের সহিত প্রেরণ করিয়াছেন, উহার দৃষ্টান্ত সেই বৃষ্টির ন্যায় যাহা কোন জমিনের উপর মুষলধারে বর্ষিত হয় (আর যে জমিনের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হইল উহা তিন প্রকারের ছিল।) (১) উহার এক টুকরা অতি উত্তম ছিল, যাহা পানিকে নিজের ভিতরে শোষণ করিয়া লইল, অতঃপর যথেষ্ট পরিমাণ ঘাস ও শষ্য উৎপন্ন করিল। (২) জমিনের অপর টুকরা কঠিন ছিল, (যে পানিকে শোষণ তো করিল না, কিন্তু) উহার উপর পানি জমিয়া রহিল। আল্লহ তায়া’লা উহার দ্বারাও লোকদের উপকার করিলেন। তাহারা নিজেরাও পান করিল, পশুদেরও পান করাইল এবং ক্ষেত কৃষিও করিল। (৩) সেই বৃষ্টি জমিনের এমন এক টুকরার উপরও বর্ষিত হইল যাহা খোলা ময়দান ছিল, যাহা না পানি জমা করিয়া রাখিল না ঘাস উৎপন্ন করিল।
এমনি ভাবে মানুষও তিন প্রকারের হইয়া থাকে। প্রথম) দৃষ্টান্ত সেই ব্যাক্তির, যে দ্বীনের বুঝ হাসিল করিল এবং যে হেদায়েত সহকারে আল্লহ তায়া’লা আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন উহা দ্বারা আল্লহ তায়া’লা তাহাকে উপকৃত করিলেন। সে নিজেও শিক্ষা করিল এবং অপরকেও শিক্ষা দিল। (দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির যে নিজেতো ফায়দা হাসিল করে নাই কিন্তু অন্যেরা তাহার দ্বারা ফায়দা পাইয়াছে।) (তৃতীয় দৃষ্টান্ত) সেই ব্যক্তির যে উহার প্রতি মাথা উঠাইয়াও দেখিল না, আর না আল্লহ তায়া’লার সেই হেদায়েত কে গ্রহণ করিল, যাহার সহিত আল্লহ তায়া’লা আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন। (বুখারী)
মুন্তাখাব হাদিস (জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ৩২০-৩২১

নামাযঃ হাদীস-৪৯

18 04 2010
হযরত আ’ব্দুল্লহ ইবনে উ’মার রদিয়াল্লহু আ’নহুমা (عبْد الله بنْ عمر رضى الله عنْهما) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে স্থান পর্যন্ত মুয়াযযিনের আযানের আওয়াজ পৌছে, সে স্থান পর্যন্ত তাহার মাগফিরাত করিয়া দেয়া হয়। প্রত্যেক প্রাণী ও নিষ্প্রাণ যাহারাই তাহার আযান শুনিতে পায় তাহার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। এক রেওয়ায়েতে আছে যে, প্রত্যেক প্রাণী ও নিষ্প্রাণ তাহার আযানের জবাব দেয়। (মুসনাদে আহমাদ, তাবারানী, বাযযার, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)

নামাযঃ হাদীস-৪৮

18 04 2010
হযরত আবু হুরইরহ রদিয়াল্লহু আ’নহু (أبىْ هريْرة رضى الله عنْه) হইতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, মুয়াযযিনের গুনাহ ঐ স্থান পর্যন্ত মাফ করিয়া দেয়া হয় যে স্থান পর্যন্ত তাহার আযানের আওয়াজ পৌঁছায়। (অর্থাৎ যদি এতদুর পর্যন্ত জায়গা তাহার গুনাহ দ্বারা ভরিয়া যায় তবুও সমুদয় গুনাহ মাফ করিয়া দেওয়া হয়।) প্রাণী ও নিষ্প্রাণ যাহারাই মুয়াযযিনের আওয়াজ শুনিতে পায় তাহারা সকলেই তাহার পক্ষে কেয়ামতের দিন সাক্ষ্য দান করিবে। মুয়াযযিনের আওয়াজ শুনিয়া যাহারা নামায পড়িতে আসে তাহাদের জন্য পঁচিশ নামাযের সওয়াব লিখিয়া দেয়া হয় এবং এক নামায হইতে বিগত নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করিয়া দেয়া হয়। (আবু দাউদ)
ফায়দাঃ কোন কোন পঁচিশ নামাযের সওয়াব মুয়াযযিনের জন্য এবং তাহার এক আযান হইতে বিগত আযান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হইয়া যায়। (বযলুল মাজহুদ)

নামাযঃ হাদিস-১

16 04 2010
হযরত আ’ব্দুল্লহ ইবনে উ’মার রদিয়াল্লহু আ’নহুমা (عبْد الله بنْ عمر رضى الله عنْهما) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, ইসলামের ইমারত পাঁচ জিনিসের উপর কায়েম করা হইয়াছে, (এক) লা-ইলাহা ইল্লাল্লহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লহ এর সাক্ষ্য প্রধান। (অর্থাৎ এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লহ ব্যতীত আর কেহ ইবাদাতের উপযুক্ত নাই এবং হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লহ তায়া’লার রসূল।) (দুই) নামায কায়েম করা। (তিন) যাকাত আদায় করা। (চার) হাজ্জ করা। (পাঁচ) রমযান মাসে রোযা রাখা। (বুখারী)

নামাযঃ হাদিস-২

17 04 2010
হযরত যুবাইর ইবনে নুফাইর রহিমাহুল্লহ বর্ণনা করেন, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, আমাকে এই হুকুম দেয়া হয় নাই যে আমি মাল জমা করি এবং ব্যবসায়ী হই। বরং আমাকে এই হুকুম দেয়া হইয়াছে যে, আপনি আপনার রবের তাসবীহ ও প্রশংসা করিতে থাকুন, নামায আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকুন এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনার রবের ইবাদাত করিতে থাকুন। (শরহে সুন্নাহ, মেশকাত)

জামাতে নামাযের ব্যাপারে কুরআনের আয়াতসমূহ

17 04 2010
এবং নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর, আর রুকুকারীদের সাথে রুকু কর অর্থাৎ জামাতের সহিত নামায আদায় কর (সূরা বাকারাহ)

ফরয নামায সম্পর্কিত কুরআনের আয়াতসমূহ

14 04 2010
নিশ্চয়ই নামায নির্লজ্জ ও অশোভনীয় কাজ হইতে বিরত রাখে। (আনকাবুতঃ৪৫)
নিশ্চয়ই যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং নেক আমাল করিয়াছে, আর যাহারা (বিশেষ ভাবে) নামাযের পাবন্দী করিয়াছে এবং যাকাত আদায় করিয়াছে তাহাদের রবের নিকট তাহাদের সওয়াব সংরক্ষিত রহিয়াছে। আর না তাহাদের কোন আশঙ্কা থাকিবে এবং না তাহারা চিন্তিত হইবে। (বাকারাহঃ২৭৭)
(আল্লহ তায়া’লা তাঁহার রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে বলিয়াছেন) আমার ঈমানদার বান্দাদিগকে বলিয়া দিন, যেন তাহারা নামাযের পাবন্দী করে এবং আমি যাহা কিছু তাহাদিগকে দিয়াছি উহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে দান খয়রাতও করে — সেই দিন আশার পূর্বে যেদিন না কোন ক্রয়-বিক্রয় থাকিবে (অর্থাৎ কোন জিনিস দিয়া নেক আমাল খরিদ করিয়া লওয়া যাইবে না) আর না কোন বন্ধুত্ব কাজে আসিবে। (অর্থাৎ কোন বন্ধু তোমাকে কোন নেক আমাল দান করিবে না) (সূরা ইবরাহীম-৩১)
(হযরত ইবরাহীম আ’লাইহিস সালাম দোয়া করিয়াছেন) হে আমার রব, আমাকে বিশেষভাবে নামাযের পাবন্দী করনেওয়ালা বানাইয়া দিন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হইতেও। হে আমাদের রব, এবং আমার দোয়া কবুল করুন। (সূরা ইবরাহীম-৪০)
(আল্লহ তায়া’লা আপন রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে বলিয়াছেন) সূর্য ঢলিয়া পড়ার পর হইতে রাত্রি অন্ধকারাছন্ন হওয়া পর্যন্ত নামাযগুলি আদায় করিতে থাকুন। (অর্থাৎ যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা) আর ফযরের নামাযও আদায় করিতে থাকুন, নিশ্চয়ই ফযরের নামায (আমাল লেখার কাজে নিয়োজিত) ফিরিশতাদের উপস্থিতির সময়। (বনি ইসরাঈল-৭৮)
(আল্লহ তায়া’লা সফলকাম ঈমানদারদের একটি গুন এরূপ উল্লেখ করিয়াছেন) আর তাহারা নিজেদের ফরয নামাযসমূহের পাবন্দী করে। (সূরা মুমিনুন-৯)
হে ঈমানদারগন, যখন জুমুয়ার দিনে (জুমুয়ার) নামাযের জন্য আযান দেয়া হয় তখন তোমরা আল্লহ তায়া’লার যিকির (অর্থাৎ খুতবা ও নামায) এর দিকে তৎক্ষনাৎ ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় (ও অন্যান্য কাজকর্ম) ত্যাগ কর, ইহা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম যদি তোমাদের কিছু জ্ঞান থাকে। (সূরা জুমুআহ-৯)
Post a Comment