নারী শিক্ষায় ইসলামের প্রেরণা -- জহির উদ্দিন বাবর



একজন পুরুষের জন্য শিক্ষার প্রয়োজন যতটুকু, একজন নারীর জন্যও ততটুকুই। বরং বলা যায়, এ ক্ষেত্রে নারীশিক্ষার প্রয়োজনটা একটু বেশি। একটি জাতির উন্নতি, অগ্রগতি, অবনতি নির্ভর করে তাদের সন্তান-সন্ততির শিক্ষা-দীক্ষার ওপর এবং এই শিক্ষা অধিকতর নির্ভর করে তাদের মায়েদের ওপর। মা যদি শিক্ষিত, নেক্কার, জ্ঞানী, চরিত্রবতী, বুদ্ধিমতী ও সচেতন হন তাহলে নিঃসন্দেহে তাদের সন্তানরাও ওইসব গুণের অধিকারী হবে। একটি জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে নারীসমাজের সুষ্ঠু শিক্ষার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা শিক্ষিত মেয়ে যে ঘরে প্রবেশ করবে সেটি আলোকিত হবে এবং তার ঘরে যে সন্তান জন্ম নেবে তারাও শিক্ষিত হবে। তাদের নৈতিক চরিত্র উত্তম হবে। একমাত্র ধর্মভীরু ও শিক্ষিত মায়ের হাত বুলানো পরামর্শই পারে সন্তানকে মিথ্যা প্রবঞ্চনা, বেহায়াপনা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, অবৈধ অর্থ উপার্জন, অন্যের অধিকার হরণ ইত্যাদি থেকে বিরত রাখতে। ইসলাম পুরুষের মতো নারীর জন্যও শিক্ষা লাভ ফরজ করেছে এবং শিক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। ইসলামে যেখানেই পুরুষের শিক্ষার প্রসঙ্গ এসেছে, সেখানে নারীদের শিক্ষার কথাও বলা হয়েছে। নারীর প্রশিক্ষণের মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক বিষয় হচ্ছে তার মধ্যে সততা, লজ্জা, নম্রতা, ইজ্জত ও পবিত্রতার অনুভূতি সৃষ্টি করা। এসব গুণকে তার অভ্যাসে পরিণত করা।
নারীশিক্ষার প্রেরণা দিয়েই ইসলাম ক্ষান্ত হয়নি, ইসলামে নারীশিক্ষার মডেলও রয়েছে। নবীজীর সহধর্মিনী হজরত আয়েশা (রা.) ছিলেন তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিতা নারী। বড় বড় সাহাবায়ে কেরামও তার কাছে ইসলামের নানা বিষয়ে শিক্ষালাভ করেছেন। ইসলামের অনেক শিক্ষা ও নির্দেশ তার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলের অন্যান্য স্ত্রী-কন্যা, তৎকালীন মুসলিম রমণীরা সবাই প্রয়োজনীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। একাডেমিক শিক্ষার প্রচলন না থাকলেও ঘরোয়া পরিবেশে নারীরা জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় শিক্ষাটুকু নিজ উদ্যোগে অর্জন করে নিয়েছিলেন। ফলে তাদের গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানাদি পৃথিবীতে চোখ খুলেই আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠেছিলেন। তারাই পরবর্তী সময়ে ভুবনজয়ী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে সারা বিশ্বকে আদর্শের শিক্ষা দিয়েছে। ইসলামের স্বর্ণযুগে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সবাই মায়েদের আদর্শিক ধারার বলিষ্ঠ শিক্ষার গুণেই আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
নারী-পুরুষের প্রকৃতিতে যেহেতু পার্থক্য আছে এজন্য তাদের শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রটিও আলাদা হওয়া বাঞ্ছনীয়। নারীর জন্য সহায়ক পরিবেশে যত উন্নত শিক্ষাই নারী গ্রহণ করুক তাতে ইসলামের কোনো বিধি-নিষেধ নেই। পরিবেশগত সহায়তা পেলে নারী তার শিক্ষা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রও বেছে নিতে পারে, তাতেও দোষের কিছু নেই। একজন শিক্ষিত নারী একটি পরিবার থেকে নিয়ে রাষ্ট্র পর্যন্ত বদলে দিতে পারে। নারীর উপযুক্ত শিক্ষাক্ষেত্র ও কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে উদাসীনতা একটি জাতির অধঃপতনের প্রমাণ। অনাগত প্রজন্মের সুষ্ঠু বিকাশের লক্ষ্যেই নারীশিক্ষার প্রতি জোর দেয়া উচিত। 
(সংকলিত) 
  আপলোড তারিখ : 2012-03-09
Post a Comment